মাই আইইউবিএটি লাইফ

দুবছরের একটা সরল পথ।
সাজানো একটা একান্নবর্তী পরিবার।
ঘড়ির কাঁটায় ভর করে চলা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত।
কিভাবে যে কেটে গেলো বুঝলাম না।
এখন বুঝছি...
গতকালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যতটুকু সময় গড়িয়েছে, ততটুকু সময়ে খুব ভালভাবেই বুঝেছি যে একেবারে কম সময় কাটাইনি আইইউবিএটি -তে।
কাল থেকে সময় যেন কাটছেই না।
মনে হচ্ছে ঘড়ির কাঁটাগুলো হঠাৎ থেমে গিয়ে চিরকালের তরে অকেঁজো হয়ে আছে।
চেনা পথ ছেড়ে সহসাই চলে যাওয়াটা একটু কঠিন মনে হচ্ছে এসময়।
স্কলারশিপ পাবার এক রকম আত্মিক প্রশান্তি মাঝে দুদিন আগেও এতোসব মায়ার কোন অভাববোধ করিনি।
আজ মায়া বুঝি আমাকে পেয়ে বসেছে। আর সে মায়ার টানটা একটু বেশিই তীব্রতর।

জীবিকার টানে এটাই ছিল আমার প্রথম পথ।
পথ চলার এই সুদীর্ঘ সময়টাতে অনেক ভাল মানুষের সঙ্গ পেয়েছি, যাদের কখনো ভোলা সম্ভব না।

মফিজুল ইসলাম স্যারঃ কোয়ালিটি ব্যাপারটা তার থেকেই শিখেছি। কোন একটা কাজ একবার করে শেষ করতে পারিনি। প্রতিবারই আমার কাজে নতুনত্ব এনে দিয়েছেন। তার থেকে শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখে এলাম।

আবদুল্লাহ আল মামুন স্যারঃ তার ঘাড়ে কতো বোঝা রেখে যে কতবার পাড় পেয়েছি, তার শেষ নেই। যে কাজ নিয়ে মফিজ স্যারের কাছে যেতে ভয় পেতাম, সেই কাজ স্যার সমাধান করে দিতেন। এছাড়াও অনেক ব্যাপার আছে, যা বলে শেষ করা যাবে না। একসাথে থেকেছি, বহু কাজের সমাধান নিয়েছি তার থেকে। আর সেগুলোর সবটাই সঠিক সমাধান।

লিপু স্যারঃ কাল চলে আসার এক ঘন্টা আগেও যেভাবে কথা বলেছেন, তাতে মনেই হয়নি যে আমি আইইউবিএটি ছেড়ে যাচ্ছি। একেবারে পুরনো দিনের মতো তার ব্যবহার। আমি শুধু তার দিকে তাকিয়েই ছিলাম। তখন অল্প সময়ের জন্য হলেও ভুলে গিয়েছিলাম যে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর আলাদা হচ্ছি। খুব কাছে থেকে তিনি আমায় আগলে রেখেছেন। যেভাবে এনেছেন, অভিভাবকের মতো সেভাবেই রেখেছেন। পরম শ্রদ্ধা রইলো লিপু কাকার জন্য।

সুকুমার মন্ডল দাদাঃ আমি যদি ছোট এক টুকরো দ্বীপ হয়ে থাকি, দাদা হলেন সমূদ্রতল। যার থেকে অগনিত বালুকারাশি নিয়ে আমার দ্বীপের আয়তন বাড়িয়েছি। সকল বিষয়ে কী অসাধারণ জ্ঞান তার। যিনি তার সাথে মিশেছেন, তিনিই শুধু তার জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা রাখেন। তার শিক্ষা বাস্তব জীবনমুখী। আমার চলার পথে তার শেখানো কথাগুলো প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দিবে। আমার যতটুকু জ্ঞান ছিলো, দাদা তাতে শান দিয়ে আরও উজ্জ্বল করে দিয়েছেন। আমার সকল সাহিত্য চর্চায় তিনি মানুষের জন্য বার্তা দেয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। দাদার সাথে আমার বসবাসের সুযোগটা মনেহয় ঈশ্বর-প্রদত্ত। নাহয় এমন মানুষের নাগাল পাওয়া সম্ভবপর নয়। দাদা, আপনি চিরকাল বেঁচে থাকুন। আমার মাঝে তো থাকবেনই। বাস্তবে না হোক, অদৃশ্য ছায়ারূপী একজন পথ প্রদর্শক হিসেবে।

শাওন আপুঃ একাউন্টস এ গেলেই যাকে সবার আগে খুঁজে বেড়াতাম। এর পিছনে মূল কারণ হলো, তিনি যে কাজেই ব্যস্ত থাকতেন না কেন, আমাকে দেখলে এগিয়ে এসে আমার কাজটার সমাধান করে দিতেন।

আল-আমীন ভাইঃ আপনার সাথে শেষ দিনের লাঞ্চ টেবিলটার কথা মনে রাখবো। এর পাশাপাশি আপনার হাসিমুখে আমার কাজের সমাধানটাও।

মিরাজ ভাইঃ আপনার সাহায্যগুলো সবসময় স্বরণ করবো।
লুৎফর ভাইঃ আপনার উৎসাহগুলো আমায় অনেক সাহস যুগিয়েছে। শেষ দিনেও আপনি আমাকে অনেক সাহস দিয়েছেন।

হানিফ ভাইঃ বন্ধুসুলভ ভাই। অনেক সময় কাটিয়েছি আপনার সাথে। চায়ের কাপগুলো তার গরম গরম সাক্ষী। বিশ্বাস না হলে মাইনুলের চায়ের কাপে আরেক চুমুক দিয়ে দেখবেন।

মি. খাইরুজ্জামানঃ দ্যা কোরিয়ান পাবলিক। আমার সাথে আপনার নুয়ে যাওয়া আলিঙ্গন সবসময় সাথে থাকবে। হাসিগুলো কানে বাজবে। মাইনুলের দোকানটা মনেহয় আপনার আর আমার মিলিত কথাগুলো মিস করবে। বেসম্ভব লেভেলের হেল্পফুল আপনি। চুলের স্টাইলটা পাল্টাবেন না ভুলেও। মনে থাকে যেন।

সেলিম আঙ্কেলঃ আপনার রসিক কথাগুলো, বিশেষ করে কথার মাঝে হঠাৎ করে বলে ওঠা "আর কওয়া লাগবে না, বুইঝা গেছি" আজীবন মনে থাকবে। শেষ রাতের ইলিশ পার্টিতে আপনার উপস্থিতিটা আমার জন্য অনেক আনন্দের ছিল।

শাহিন ভাইঃ বিদায় বেলা আপনার চোখ আর কাপা গলা খুব কষ্টে সহ্য করেছি। আগেরদিন রাতেও আপনার অভাবটা বুঝিনি। এখন আপনাকে অনেক মিস করি। সবসময় করবো। জীবনের পথে আপনি অনেকদূর এগিয়ে যাবেন, আমার বিশ্বাস। আপনি আমার সহকর্মী না, একজন বন্ধু বটে। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাক চিরকাল।

রানা ভাইঃ ডরমিটরিতে এসে আমার হাতে প্রথম চায়ের কাপটা আপনার হাত থেকেই এসেছিল। আমার আগেই আপনি চলে গেলেন। আরো কিছুদিন থাকলে ভাল লাগতো। যাক সেকথা। আপনার নতুন কর্মজীবন অনেক আনন্দের কাটুক। সে দোয়াই রইলো।

মুকুল ভাইঃ গল্পের ফাঁকে আপনার দুধ আর আলু ভর্তা মিশিয়ে ভাত খাওয়ার কথা চীনে গিয়ে সবাইকে জানাবো।

এভাবে বলতে গেলে বলা আর শেষ হবে না। অনেক মানুষ ছিলো আমার চারপাশ জুড়ে।
সাঈদ ভাই, মাহবুব ভাই, ফকরুল ভাই, হাসমত ভাই, আলতাফ ভাই, ফারুক ভাই, মাসুদ ভাই, তিজা ভাই, তারিকুল ভাইসহ সকলে ভাল থাকবেন।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, অনেকের সাথেই গতকাল হয়তোবা ছিল আমার শেষ সাক্ষাত। জীবনের নিয়ম এটাই। এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। তবুও মনে প্রাণে চাই, আরো হাজারবার সকলের সাথে আবার আমার দেখা হোক।
চলার পথে কিছু ভুল থেকেই যায়।
না জানা ভুলগুলোর জন্য সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। আগামীর দিনগুলোতে সকলকে আবার পাশে পেতে চাই।
ভালবাসা রইলো সকলের জন্য।
ভিসি স্যারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে আইইউবিএটির সাফল্য কামনা করি।

এই প্রতিষ্ঠান আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। যা কখনো ভুলবো না।
ভুলবো কি করে...!!
শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নির্মল বাতাস, গভীর রাতে মাঠের সবুজ গালিচা, চন্দ্রছোঁয়া রূপালি লেক, তুরাগের তীর, ঝুলে থাকা নানান রঙের বৈদ্যুতিক বাতি আমার হৃদয়ে অনেক প্রশান্তি ছড়িয়েছে। আইইউবিএটি এর প্রতিটি অংশ আমার প্রাণে গেঁথে রবে বহুকাল ধরে।

Post a Comment

My Instagram

Copyright © HEERA. Made with by Rafiqul Islam Heera